Uncategorized

ওসির সামনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, সেই যুবদল নেতা বহিষ্কার

নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সামনে ইজারাদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংঘর্ষে জড়িত থাকা ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগে আরও তিন যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল। 

শুক্রবার রাতে নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান আনিস স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি শনিবার সকালে সাংবাদিকদের হাতে আসে। বহিষ্কৃত রাকিবুর রহমান গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

এদিকে অন্য একটি ঘটনায় যুবদলের স্থানীয় আরও তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন নাটোর সদর উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি (প্রস্তাবিত) আবদুল গফুর, নলডাঙ্গা উপজেলার পিঁপরুল ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. লিটন এবং একই ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আরব আলী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি গুরুদাসপুর উপজেলা চত্বরে ওসির উপস্থিতিতেই এক ইজারাদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে নলডাঙ্গার পিঁপরুল ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা যুবদল।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রধান ফটকে থানার ওসি শফিকুজ্জামান সরকার দাঁড়িয়ে আছেন। তার পাশে চন্দ্রপুর তুলাধুনা হাটের ইজারাদার ওবায়দুল ইসলামসহ ৮ থেকে ১০ জন দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় হালকা গোলাপি রঙের গেঞ্জি পরা এক যুবক হাত উঁচিয়ে ওবায়দুল ইসলামের দিকে তেড়ে আসেন। সবার সামনেই তিনি তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে মাটিতে শুইয়ে ফেলবেন বলে হুংকার দেন। তিনি গালাগাল করতে থাকলে ওসি সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রোজার দিন, আপনারা এখন চলে যান।’

ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‌‘রা‌কিবুর গুরুদাসপুরের চন্দ্রপুর তুলাধুনা হাটের ইজারা নেওয়ার জন্য দরপত্র দাখিল করেছিলেন। কিন্তু দর কম দেওয়ায় হাটটির ইজারা পাননি। সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় ইজারা পেয়েছি আমি। এ নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।’

বহিষ্কার আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই চার নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়ভার দল গ্রহণ করবে না। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলা যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনও প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button