নিজ বাসা থেকে শিক্ষিকার হাত–পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকগোবিন্দ বীজ অফিসের পেছনে নিজ বাসা থেকে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় এক শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শামসুন্নাহার রুমা (৪৫) তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি সোলাইমান মাস্টারের মেয়ে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে তার বাসার দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরের ভেতর হাত–পা বাঁধা অবস্থায় তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে হাত–পা বেঁধে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
তাদের দাবি, কে বা কারা পরিকল্পিতভাবে বাসায় প্রবেশ করে শামসুন্নাহার রুমার হাত–পা বেঁধে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় তারা এটিকে ‘নৃশংস ও ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
স্বজনরা বলেন, তিনি কারও সঙ্গে শত্রুতা করতেন না। এমন নির্মম হত্যার সঠিক বিচার চাই।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্রোহ কুমার কুন্ড। সঙ্গে ছিলেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
ওসি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এদিকে, নৃশংস এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের জোর দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।



