জুলাই গণহত্যাসহ গুম-খুনে জড়িতদের বিচারে সোচ্চার থাকবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ফ্যাসিবাদ বিলোপে গণহত্যার বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণহত্যা, গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে এনসিপি সোচ্চার থাকবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন, রেল ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব। এতে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, এক বছরে এনসিপি নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। শুধু এনসিপি নয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুরো বাংলাদেশই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছে। সেই সময়কে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, এনসিপি তার অবস্থান থেকে সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, তাদের আরেকটি মূল প্রতিপাদ্য হলো “বিপ্লব, বিকল্প ও বিনির্মাণ।” বিপ্লবের শক্তি থেকেই বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চায়। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য—“দেশ আর যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের বিশ্বাস দেশ ফ্যাসিবাদি শাসন থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখন লক্ষ্য গণতন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ এনসিপির পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কথা স্মরণ করেন। তার ভাষায়, এসব ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকেই ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির জন্ম। গণঅভ্যুত্থানই তাদের শেকড় এবং সেখান থেকেই যাত্রা শুরু।
আগামী কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে মূল লক্ষ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা জানিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করে রাজনৈতিক অর্জন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিজয় অর্জন করলেও তিনি এতে সন্তুষ্ট নন। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে এনসিপি। পাশাপাশি সংস্কার পরিষদ গঠন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা আইন ও অধ্যাদেশসমূহ সংসদে অনুমোদনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে নির্বাচনে সমর্থন দেওয়া সাধারণ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।



