ট্রাম্পের দাবি ‘খামেনি মারা গেছেন’, একে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলছে তেহরান

ইরানে শনিবার থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি এই যৌথ অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, “তিনি (খামেনি) আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম এড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে আমরা এটি নিশ্চিত করেছি। তার বা তার সঙ্গে নিহত অন্যান্য নেতাদের আর কিছুই করার ছিল না।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইরানের জনগণের জন্য এটি দেশ পুনর্গঠনের এক সুবর্ণ সুযোগ। আশা করি, আইআরজিসি এবং পুলিশ শান্তিকামী দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একাত্ম হবে।”
এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ‘বেঁচে নেই’— এমন লক্ষণ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এমনকি রয়টার্স এক উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে যে, খামেনির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। নেতানিয়াহু জানান, এই অভিযানে বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার এবং পরমাণু কর্মসূচির শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও ‘নির্মূল’ করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এসব সংবাদ পরিবেশন করা হয়।
তেহরানের পাল্টা দাবি ও পরিস্থিতি
তবে খামেনি নিহত হওয়ার খবরকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের তাসনিম ও মেহর নিউজ এজেন্সি। তারা জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা এখনও ‘সুস্থ ও দৃঢ়ভাবে’ ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনির কার্যালয়ের জনসংযোগ প্রধান একে শত্রুপক্ষের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, “আমার জানামতে সর্বোচ্চ নেতা এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।”
পাল্টা হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার ২৪টি প্রদেশে চালানো এই যৌথ হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করেছে।
তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে তেহরান থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা শোকবার্তা আসেনি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা ও ধোঁয়াশা বিরাজ করছে।



