গাড়ি কেনা-বেচা চক্রের সদস্য গ্রেফতার

অর্ধ ডজন মামলা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আত্মগোপনে ছিল সাইফুল ইসলাম (৪০)। গ্রেফতার এড়াতে বাসাসহ আশপাশের এলাকায় স্থাপন করে সিসি ক্যামেরা। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে সিআইডির অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মো. সাইফুল ইসলামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার পশ্চিম বিঘা গ্রামে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সাতপাখি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর ইউনিটের একটি চৌকস আভিযানিক দল।
সিআইডি মিডিয়া বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সিআইডি জানায়, মামলার বাদী একটি পুরনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মালিক। ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা করে আসছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সাইফুল ইসলাম ও তার চক্রের অন্য একজন সদস্য (পলাতক) জাল নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে প্রস্তুত করে মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রদর্শন এবং গাড়ির কথিত মালিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি পুরনো গাড়ি বিক্রি করে। এর মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ এবং ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়।
পরে প্রকৃত মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে অনলাইনে যাচাই করে মামলার বাদী জানতে পারেন, গাড়িটির মালিকানা অন্য ব্যক্তির নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে গাড়িটি বিক্রি করে এবং অন্যের নামে মালিকানা পরিবর্তন করে আইনি জটিলতা তৈরি করতো। পরে ক্রেতাকে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাদী ক্যান্টনমেন্ট (ডিএমপি) থানার মামলা করেন।
মামলার তদন্তেকালে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি সদস্য হিসেবে বিভিন্ন রেন্ট-এ-কার মালিকদের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জাল মালিকানা চুক্তিনামা ও রশিদপত্র তৈরি করে তা বিক্রি করে আসছিল। গ্রেফতার ব্যক্তি নিজেকে বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বার্তা সম্পাদক ও চ্যানেলের পরিচালক পরিচয় দিতো এবং তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা শারমিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে প্রতারণার নানা কৌশল অবলম্বন করতো।



