গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়া আগেই ইরানে লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করতে ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই অভিযানের সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থা (ইন্টারসেপ্টর) সংকটের আশঙ্কা। তেহরানের পাল্টা আঘাত সামলাতে গিয়ে গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই মিশন শেষ করতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।
পেন্টাগনের ভাষায় যাকে ‘ম্যাগাজিন ডেপথ’ বা সমরাস্ত্রের মজুত বলা হয়, তার সঠিক পরিমাণ গোপন রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একের পর এক সংঘাতের ফলে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুতে টান পড়েছে। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, ‘আমরা যে গতিতে এগুলো ব্যবহার করছি, সেই গতিতে নতুন করে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোতে যে হারে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদি কোনও যুদ্ধে টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। সেন্টার ফর অ্যা নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির বেকা ওয়াসার সতর্ক করে বলেন, চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই এই ধরনের সমরাস্ত্র ফুরিয়ে যেতে পারে। ফলে ইরান মিশনে এই সমরাস্ত্রের অতি-ব্যবহার পেন্টাগনকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি যুক্ত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কিছুটা চাপ কমছে। তবে ইসরায়েলের নিজস্ব মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েলের কাছে অ্যারো-৩ ইন্টারসেপ্টর এবং বিমান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বর্তমানে বেশ কম।
শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, ড্রোন এবং বিমানঘাঁটিতে পিনপয়েন্ট হামলা চালাচ্ছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পাল্টা আঘাত করতে পারেনি। ইসরায়েলি বাহিনীর সাবেক মুখপাত্র জোনাথন কনরিকাস বলেন, ইরান এ পর্যন্ত যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পেরেছে, তাতে আমি খুব একটা বিস্মিত হইনি। শেষ পর্যন্ত এটি একটি সংখ্যার লড়াইয়ে রূপ নেবে, আমাদের কতগুলো ইন্টারসেপ্টর আছে বনাম তারা কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা সপ্তাহজুড়ে বা প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ সময় চলবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মজুত ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে ভাবছে।



