অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশিদের বিপদ কতটুকু?

আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের ওপর। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী।
আয়ারল্যান্ডে গণ-নির্বাসনের শঙ্কা
সম্প্রতি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৬৫ জন অভিবাসীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফেরত পাঠিয়েছে আয়ারল্যান্ড। দেশটির বিচারমন্ত্রী জিম ও ক্যালাহান নিশ্চিত করেছেন, ২০২৬ সালে এ ধরনের বিশেষ বিমানে অভিবাসীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়মিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হতে পারে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীরা। গারিডা ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ব্যুরো (জিএনআইবি) ইতোমধ্যেই কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে বিশেষ রুট এবং চার্টার্ড ফ্লাইটের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাংলাদেশ ‘নিরাপদ দেশ’ হওয়ায় বেড়েছে ঝুঁকি
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর ফলে আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন এখন মাত্র ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে। আগে যেখানে বছরের পর বছর সময় লাগতো, এখন ‘নিরাপদ দেশ’ হওয়ার কারণে বেশিরভাগ আবেদন সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে নাকচ হয়ে যাচ্ছে এবং দ্রুত নির্বাসনের আদেশ দেওয়া হচ্ছে।
নতুন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিল-২০২৬
আয়ারল্যান্ডের নতুন ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রোটেকশন বিল ২০২৬’ অভিবাসন আইনকে আমূল বদলে দিয়েছে। এই আইনের আওতায় বিমানবন্দর ও বন্দরগুলোতে অভিবাসীদের স্ক্রিনিং এবং আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাত্র ১২ সপ্তাহ বা তিন মাস সময় নির্ধারিত হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হচ্ছে।
আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে বসবাসরত বাংলাদেশি সালেহ আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কারও আবেদন বাতিল হওয়ার পর কোনও আইনি জটিলতায় কিছুদিন থাকার সুযোগও এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, যারা অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের দ্রুততম সময়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।
কঠোর অবস্থান নিলেও দক্ষ পেশাদার এবং বৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে সরকার। অভিবাসন প্রতিমন্ত্রী কলম ব্রোফি জানিয়েছেন, যারা বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তারা এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত নন। তবে যারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের অপব্যবহার করছেন বা যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। ২০২৬ সালের এই কঠোর নীতি মূলত আয়ারল্যান্ডের অভিবাসন ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তির সঠিক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



