ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে মেলিতা মেহজাবিন, সরে দাঁড়ালেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু

বেসরকারি খাতের ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন এসেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আউয়াল মিন্টু পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন।
ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৫৩৯তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে তিনি ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনও ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকতে পারবেন না—বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন বিধিনিষেধের পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুল আউয়াল মিন্টু পদত্যাগ করেন। ফলে পরিচালনা পর্ষদ নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করে।
করপোরেট ও একাডেমিক অভিজ্ঞতা
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবিন বর্তমানে গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং ২০০৯ সালে প্রভাষক হিসেবে একই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে যুক্তরাজ্যের অ্যালায়েন্স ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।
শিক্ষকতায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি করপোরেট খাতে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করেন। এ সময় তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ও সিটিব্যাংক এনএ-এ দায়িত্ব পালন করেন।
অনিয়মের প্রেক্ষাপটে পুনর্গঠন
২০২৪ সালের আগস্টে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৃতীয়বারের মতো ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করে। নতুন পর্ষদে তিনজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। শেয়ারহোল্ডার পরিচালকদের মধ্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টু ছাড়াও ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন ও জাকারিয়া তাহের।
এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকার ঋণের সুদ মওকুফ করতে বাধ্য হয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ওই গ্রুপের ঋণের সুদ মওকুফ ও অবশিষ্ট ঋণ পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক খাতের সংস্কার ও সুশাসন জোরদারের প্রেক্ষাপটে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ব্যাংকটি স্থিতিশীলতা ও আস্থার পুনর্গঠনে কতটা অগ্রগতি করতে পারে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।



