ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত, বাড়ছে যুদ্ধের পরিধি

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং পাল্টা জবাবে ইরান ও ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে দুই পক্ষই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ওয়াশিংটন আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা করব না।
ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠী বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এছাড়া সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে তারা সোমবার ভোরে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই হিজবুল্লাহর প্রথম হামলা।
ইরানি নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলি খামেনি এবং ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।
খামেনির মৃত্যুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের প্রতি তাদের সরকার ‘দখল’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিলেও সামরিক অভিযান বন্ধের কোনও লক্ষণ দেখাননি তিনি। এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, পুরোদমে অভিযান চলছে এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবে। তিন মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় ট্রাম্প প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন।
যুদ্ধের বিস্তার ঘটায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোও জড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলায় ৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্যদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।
ইসরায়েল এরই মধ্যে বৈরুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের প্রায় ৫০টি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে।



