Uncategorized

র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধান ব্যবধান ৯৫, তারপরও বাংলাদেশকে সমীহ চীনের!

সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে শুরুতেই হাজির হন চীনের কোচ ও অধিনায়ক। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দেশটি এশিয়ান নারী ফুটবলে সর্বোচ্চ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন। সর্বশেষ আসরেও শিরোপা জিতেছে তারা। এবার শিরোপা ধরে রাখার চাপ ভালোভাবেই টের পাচ্ছে দলটি। যদিও গ্রুপ পর্বে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল বাংলাদেশ। দুই দলের র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধান ৯৫ ধাপ। তবু সংবাদ সম্মেলনে পিটার বাটলারের দলকে সমীহ করেই কথা বললেন চীনের কোচ।

দুই অসম শক্তির এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার। সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে প্রায় ৩০ হাজার দর্শকের সামনে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।

হয়তো কৌশলগত সৌজন্য বজায় রেখেই প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে সম্মান জানিয়েছেন চীনের অস্ট্রেলীয় কোচ। তবে মাঠের লড়াইয়ে আফঈদাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তাদের—এতে সন্দেহ নেই।

চীনের প্রধান কোচ আন্তে মিলিচিক শুরুতেই বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি তরুণ ও পরিশ্রমী দল। তারা প্রথমবারের মতো বড় কোনও টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে। কোনও চাপ ছাড়াই তারা সাবলীল ফুটবল খেলে। আমরা আগামীকাল একটি কঠিন ম্যাচের প্রত্যাশা করছি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে নিজেদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করা।’

ক্রোয়েশীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান মিলিচিক সিডনির ইনার ওয়েস্ট এলাকার উপশহর স্ট্র্যাথফিল্ডে বেড়ে উঠেছেন। চেনা পরিবেশে শিরোপা ধরে রাখার চাপ নিয়ে তিনি বললেন, ‘চীনা জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করলে সব সময়ই প্রত্যাশার চাপ থাকে। তবে আমরা অনেক দূরের চিন্তা না করে ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। চার বছর আগের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবারের আসর ভিন্ন। আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা সমর্থকদের গর্বিত করতে চাই।’

দলের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট চীনের কোচ। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। অস্ট্রেলীয় কোচরা টেকনিক্যাল দিক থেকে ভিন্ন কিছু ও ভালো কাঠামো দিতে পারেন। অস্ট্রেলীয় কোচ হিসেবে এই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। এই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।’

র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছে না চীন। মিলিচিক বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে যেকোনও দল যেকোনও দিনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। বাংলাদেশ এখানে কোনও চাপ ছাড়াই খেলবে। তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা তাদের মোটেও খাটো করে দেখছি না। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বিনিয়োগ বেড়েছে এবং তাদের খেলার মানও উন্নত হয়েছে।’

বাংলাদেশ বাছাইপর্বে নিজেদের মাঠে শক্তিশালী মিয়ানমারকে হারিয়ে এই আসরে জায়গা করে নিয়েছে—এ তথ্যও জানা আছে মিলিচিকের। তিনি বলেছেন, ‘আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকে সম্মান করি এবং বিশ্লেষণ করি। বাংলাদেশ দল খুব তরুণ ও আক্রমণাত্মক। তারা নিজেদের মাঠে মিয়ানমারকে হারিয়ে এখানে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’

কোচের পাশে বসা ১২৪ ম্যাচের অভিজ্ঞ অধিনায়ক উ হাইয়ানও আত্মবিশ্বাসী। চোটের কারণে গত টুর্নামেন্ট খেলতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা ইতোমধ্যে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকাল আমাদের প্রথম ম্যাচ। কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমি বিশ্বাস করি আমরা ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখাতে পারবো।’

কোচের মতোই বাংলাদেশকে সমীহ জানিয়ে উ হাইয়ান বলেন, ‘বাংলাদেশ র‌্যাঙ্কিংয়ে নিচে থাকলেও আমরা অন্য কিছু ভাবছি না। ধাপে ধাপে এগোতে চাই। চোটের কারণে গত টুর্নামেন্ট মিস করেছি। তাই এবার অধিনায়ক হিসেবে নিজের সেরাটা দিতে আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button