ফ্যান হিসেবে বাংলাদেশের সেরাটা চান তাবিথ, ঋতুপর্ণারা কী চাইলেন

সিডনির প্যারামাত্তার রয়েল পার্ক হোটেলেই বাংলাদেশ দলের আবাস। অনুশীলন শেষে আফঈদাদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে হাজির হন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ম্যাচের আগের দিন লাল-সবুজ দলের সেনানীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি ভালো ফল এলে বোনাসের দাবিও তুলেছেন মেয়েরা।
আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে হোটেলের উল্টো পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাবিথ আউয়াল। এশিয়ান কাপে প্রথমবার মাঠের খেলায় অভিষেকের অপেক্ষায় বাংলাদেশ নারী দল। বাফুফে সভাপতি বলেছেন, ‘ইতিহাস অলরেডি আমরা তৈরি করেছি। আশা করি, আগামীকাল আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবো। এই পর্যায়ে আমাদের নারী দল বা পুরুষ দল—কেউই এর আগে এত শীর্ষ পর্যায়ে খেলতে পারেনি। বিশেষ করে আমাদের নারী দলের জন্য সবার অভিনন্দন, তারা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক গতিতে এগিয়ে গিয়েছে।’
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে তাবিথের আশা, ‘চীন কিন্তু ওয়ার্ল্ড কাপেও খেলে। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আগামীকাল চীনের সঙ্গে ভালো খেলা উপহার দেবো। তাদের প্রতি আমার বার্তা ছিল—আমি একজন ফ্যান। একজন ফ্যান হিসেবেই বাংলাদেশ থেকে ছুটে এসেছি সিডনিতে তাদের খেলা দেখার জন্য। আমি এবং আরও প্রায় ১৫-২০ জন সাংবাদিক ভাই আছেন, আর সিডনির প্রায় ৩০০ জন বাঙালি দর্শক হিসেবে মাঠে আসবে। যদি ফুটবলকে ভালো না বাসতাম, যদি এই দলের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস না থাকত, যদি প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর আমাদের ফেইথ না থাকত, তাহলে আমরা এতদূর আসতাম না। তাই তাদের প্রতি আহ্বান ছিল—সেরাটা দাও।’
তবে মেয়েরাও সুযোগ পেয়ে নিজেদের দাবি জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতির কাছে। আগের এক কোটি টাকা বোনাস এখনও দেওয়া হয়নি—সে প্রসঙ্গও আছে। তাবিথ বলেছেন, ‘যতটুকু রিসোর্স আমরা দিতে পেরেছি, দিয়েছি। এই রিসোর্সের বিনিময়ে তারা দেশের জন্য, নিজের জন্য যতটুকু দিতে পারে, তারা যেন অবশ্যই খেলে। তারা দাবি করেছে, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা যেন এটলিস্ট নেক্সট ম্যাচের জন্য একটা গিফট বা বোনাস ডিক্লেয়ার করি। আমি বলেছি, অবশ্যই আমরা করবো। বাট তোমরা বাংলাদেশের জন্য খেলো।’
টুর্নামেন্টে টানা দুই ম্যাচ হারলেও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারাতে পারলে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে। যদিও সিডনি আসার আগে কোনও জাতীয় দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারেনি দলটি। ফলে কিছু দুর্বলতা রয়েই গেছে।
তবে তাবিথ আউয়াল আশাবাদী, ‘নানান কারণে ওদের জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করতে পারিনি। তবে চেষ্টার ত্রুটি করিনি। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী বেস্ট থার্ড টিম দুটি কোয়ালিফাই করবে। তাই শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের একটা চান্স থাকবে। আমি ফিজিও, ফিটনেস ট্রেইনার ও নিউট্রিশনিস্টের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই ভীষণ পজিটিভ। ট্রেনিং সেশন দেখে মনে হয়েছে, বাংলাদেশ এটলিস্ট ট্যাকটিক্যালি এবং ফিটনেসের দিক থেকে চীন বা নর্থ কোরিয়ার পর্যায়েই আছে। লেটস হোপ ফর দ্য বেস্ট ফর টুমরো।’



