Uncategorized

গুলিস্তান থেকে সিডনি—বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

১৯৮১ সালে ছেলেরা প্রথম এশিয়ান কাপ ফুটবলে অংশ নিয়েছিল। এরপর কেটে গেছে ৪৫ বছর। ছেলেদের কেউ সেই ধারাবাহিকতা আর ধরে রাখতে পারেনি। অবশেষে মেয়েরাই প্রথমবার ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় গ্রুপের প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন।

অসম শক্তির এই লড়াইয়ের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার আগের মতোই বাস্তববাদী। প্রত্যাশা যতই থাকুক, ইংলিশ কোচ বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে কথা বললেন।

সিডনিতে আসার আগে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে মেয়েরা। সেই পরিবেশ কেমন, তা সবারই জানা। আর সিডনির মনোরম আয়োজন দেখে স্বাভাবিকভাবেই আফসোস জাগে। সোমবার কমব্যাংক স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে টুর্নামেন্ট ঘিরে নিজদের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে বাটলার বললেন, ‘আমরা ক্যাম্প গুলিস্তান থেকে অস্ট্রেলিয়াতে করেছি। না, আমি শুধু… হ্যাঁ, আমি রাগান্বিত নই। আমি শুধু বাস্তববাদী, কখনও রাগ করি না। আমি বাস্তবতা মেনে চলি। প্রস্তুতিই সবকিছু, যদি ঠিকভাবে প্রস্তুতি না নেন, তাহলে ফলাফলের আশা করা কঠিন। আমার মনে হয় এ বিষয়ে যথেষ্ট বলা হয়েছে। এখন আমাদের এসব পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

চীনের বিপক্ষে সম্ভাব্য ফল বা পয়েন্ট পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাটলার বলেছেন, ‘হয়তো আমরা তাদের একটি খারাপ দিনেও ধরতে পারি, কে জানে! আমাদের মাঠে গিয়ে নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। আমি বড় কোনো আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখছি না। এই পেশায় অনেকদিন ধরে আছি, অনেক মহাদেশে কাজ করেছি। তবে আমি বিশ্বাস করি, মাঝেমধ্যে অদ্ভুত বা অলৌকিক কিছু ঘটেই যেতে পারে।’

বর্তমান চীন দল সম্পর্কে তার মূল্যায়ন, ‘চীন একটি শক্তিশালী দল। তাদের বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা এরিয়ালে শক্তিশালী, গতি আছে। তাদের খেলার ধরণ আমি পর্যবেক্ষণ করেছি। এই চীন দলকে যদি আপনি সময় ও জায়গা দেন, তারা আপনাকে শাস্তি দেবে। তারা ভালো খেলোয়াড়ে ভরপুর, পর্যাপ্ত অর্থায়ন আছে, সুপ্রস্তুত এবং কোচিংও খুব ভালো।’

চীনের আক্রমণাত্মক খেলার বিপরীতে বাংলাদেশের পরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্নে বাটলার বলেছেন, ‘এটি আমাদের মেয়েদের জন্য অনেকটা বিশ্বকাপের মতো। রক্ষণভাগে কিছুটা তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা (ইম্প্রোভাইজ) করতে হবে। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এটি অনেকটা ডেভিড বনাম গোলিয়াথ কিংবা বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট-এর মতো লড়াই। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা তাদের পর্যায়ের দল নই।’

তবে চীন যত শক্তিশালীই হোক, রক্ষণাত্মক হয়ে বা ‘বাস পার্ক’ করে খেলতে চায় না বাংলাদেশ। আগের মতো হাই-লাইন ডিফেন্স রেখেই খেলার প্রস্তুতি তাদের।

জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারও ইতিবাচক ফলের আশার কথা জানিয়েছেন, ‘আমরা বরাবরই যেভাবে হাই-লাইন ডিফেন্স খেলেছি, সেভাবেই খেলার চেষ্টা করবো। আমাদের চেষ্টা থাকবে অবশ্যই ভালো কিছু করার। আমাদের প্রতিপক্ষ চীন, নর্থ কোরিয়া, উজবেকিস্তান—তারা অনেক শক্তিশালী দল। আমরা চেষ্টা করবো যেন ভালো কিছু করতে পারি।’

বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে পারার সুযোগে রোমাঞ্চিত বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, ‘চীন সব দিক দিয়েই ভালো। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন এবং শক্তিশালী দল হিসেবে তারা খেলছে। চীনের টিমের সঙ্গে খেলতে পারাটাও আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে খেলবো—এখান থেকে অনেক কিছু শিখবো। তবে ভালো দল বলে আমরা মাঠের লড়াই ছেড়ে দেবো না। আমরা অবশ্যই ফাইট করব। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে।’

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button