Uncategorized

ঢাবিতে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপিত, অনুপস্থিত আ স ম আব্দুর রব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপিত হয়েছে আজ (সোমবার)। তবে, অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি আ স ম আব্দুর রব।

অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ডাকসুর সাবেক এ ভিপি। তবে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

এর আগে, ঢাবিতে পতাকা উত্তোলন দিবস পালনের অনুষ্ঠানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রবকে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে কেবল ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোয় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, সেখানে খোদ পতাকা উত্তোলককে রাখা হয়েছে অতিথির তালিকায়, এ বিষয়টিকেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ‘সঠিক মর্যাদা দিতে না পারার’ অংশ হিসেবে দেখছিলেন কেউ কেউ।

জনপ্রিয় স্যাটায়ার ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’র সহকারী সম্পাদক মোর্শেদ মিশু গত শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে লেখেন, “বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন আ স ম আবদুর রব, তিনি আমন্ত্রণ পান সম্মানিত অতিথি হিসাবে… আর ভিসি সাব হন প্রধান অতিথি… হায় সেলুকাস, বড় বিচিত্র এই দেশ…।”

সমালোচনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও ঢাবির রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন গত শুক্রবার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত বছরও অনুরূপ আয়োজন করা হয়েছিলো।” 

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ড. আখতারুজ্জামান ভিসি থাকাকালীন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপন করেছিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ এর আগের বছরগুলোতেও পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত কাউকে এ দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাবি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকাটি ছিল গাঢ় সবুজ রঙের, মাঝখানে লাল বৃত্তের ওপর অঙ্কিত ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্রের অবয়ব। শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ঢাবির কলাভবনের পশ্চিম দিকের বারান্দার ছাদে ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব পতাকাটি উত্তোলন করেন। পতাকাকে স্যালুট জানিয়ে সবাই মুক্তির আন্দোলনের প্রতি নিজেদের সংহতি প্রকাশ করেন।

ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস ২০২৬

আজ ঢাবির কলাভবন সংলগ্ন বটতলা প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

ঢাবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান স্বাগত বক্তব্য দেন। সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনশী শামস উদ্দিন আহম্মদ। এ সময় প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, অফিস প্রধানগণ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “জাতীয় পতাকা কোনও সাধারণ কাপড় নয়। এটি একটি জাতির পরিচয়, ঐক্য ও জাগরণের প্রতীক।” জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “এর কোনও বিকল্প নেই, এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন। জাতীয় পতাকা আমাদের ঐক্যবদ্ধ রাখবে।”

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত, দেশের গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীদের দাবি

ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১১৬ নাম্বার রুমকে জাদুঘরে রূপান্তর এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দাবিতে হল প্রভোস্ট বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ২টায় হলটির প্রথম বর্ষের একদল শিক্ষার্থী হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফারুক শাহের কাছে এ স্মারকলিপি দেন। 

এ সময় তারা ১১৬ নাম্বার রুমকে ‘পতাকা জাদুঘর’ বা অনুরূপ ঐতিহাসিক জাদুঘরে রূপান্তরের পাশাপাশি হল প্রাঙ্গণে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। হলের প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

প্রভোস্ট ফারুক শাহ বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবটা আমি পজিটিভলি নিয়েছি, দেখি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করবো।”




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button