ইরানে হামলা নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলাকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিখুঁত বিমান অভিযান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সোমবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শুরু করেনি, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে তারাই এটি শেষ করবে।
তেহরানের ‘সম্প্রসারণবাদী ও ইসলামপন্থি শাসনব্যবস্থার’ কঠোর সমালোচনা করে হেগসেথ বলেন, “গত চার দশক ধরে ইরাক, আফগানিস্তান ও লেবাননে ইরানের প্রক্সি বাহিনীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘একতরফা ও নৃশংস যুদ্ধ’ চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আমেরিকানদের ওপর তাদের চালানো যুদ্ধের পাল্টা হিসেবে এটি আমাদের পক্ষ থেকে সেই আয়াতুল্লাহ এবং তার ‘মৃত্যু-উপাসক’ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নেওয়া প্রতিশোধ।”
সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার লক্ষ্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, হামলার ফলে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, “এটি কোনও তথাকথিত রেজিম চেঞ্জ যুদ্ধ নয়, কিন্তু শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতভাবেই বদলে গেছে এবং এর ফলে বিশ্ব এখন আরও নিরাপদ হয়েছে।”
যদিও হেগসেথের এই মন্তব্যের বিপরীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। হামলার পর ইরানি জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমেরিকা আপনাদের অকুন্ঠ শক্তি দিয়ে সমর্থন করছে। এখন সময় আপনাদের নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করার এবং একটি সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ভবিষ্যৎ গড়ার।”
পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে হেগসেথ জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের এই যুদ্ধকে কোনোভাবেই ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। দুই দশক আগে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে দেশ পুনর্গঠনের চোরাবালিতে আটকা পড়েছিল, এবার তেমনটি ঘটবে না বলে তিনি নিশ্চয়তা দেন।
ইরাক ও আফগানিস্তান উভয় যুদ্ধেই অংশ নেওয়া হেগসেথ বলেন, “এটি ইরাক নয়। এটি অন্তহীন কোনও যুদ্ধও নয়। আমাদের প্রজন্ম ও আমাদের প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে ভালো জানেন। তিনি গত ২০ বছরের দেশ পুনর্গঠনের যুদ্ধগুলোকে ‘নির্বুদ্ধিতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তিনি সঠিক।”
তিনি বর্তমান অভিযানকে ‘সুস্পষ্ট, ধ্বংসাত্মক এবং চূড়ান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। যার মূল লক্ষ্য হলো ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নির্মূল করা, নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক সক্ষমতা রদ করা।
তিনি আরও দাবি করেন, সামরিক অভিযান শুরুর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চালিয়েছিল, যা তেহরানের অনমনীয়তার কারণে সফল হয়নি।
সূত্র: এপি



