Uncategorized

পাঁচ জনকে ডিঙিয়ে রুটিন দায়িত্ব পেলেন খালেকুজ্জামান

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব মেট্রো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মাদ শামীম আখতারকে সরিয়ে খালেকুজ্জামানকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শামীম আখতারকে তার মূল পদ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে রিজার্ভে নেওয়া হয়েছে। খালেকুজ্জামান চৌধুরী ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দা।

অধিদফতরের প্রকৌশলীদের অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রায় পাঁচ বছর গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব পালন করেন শামীম আখতার। তাকে সরিয়ে খালেকুজ্জামানকে দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়েছে। পাঁচ জনকে ডিঙিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়ায় অধিদফতরের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, একটি অনিয়ম ঢাকতে আরেকটি অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তাসনিম ফারহানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ শামীম আখতারকে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) পদে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে মো. খালেকুজ্জামন চৌধুরীকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী খালেকুজ্জামানের আগে রয়েছেন মো. আশরাফুল আলম, ড. মো. মঈনুল ইসলাম, মো. শামছুদ্দোহা ও মো. আবুল খায়ের। অথচ তাদের বাদ দিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে খালেকুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

গণপূর্ত অধিদফতরের দুজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ১৫তম বিসিএসে গণপূর্ত অধিদফতরে ১৪ জন প্রকৌশলী যোগ দেন। যার মধ্যে খালেকুজ্জামান চৌধুরীর অবস্থান ১৩তম। ইতিমধ্যে অনেকে অবসরে গেছেন। কয়েকজন চলে গেছেন ক্যাডার পরিবর্তন করে। বর্তমানে সাত জন কর্মকর্তা আছেন ১৫ ব্যাচের। এর মধ্যে ৬ষ্ঠতম খালেকুজ্জামান। বাকি পাঁচ জনকে ডিঙিয়ে খালেকুজ্জামানকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলমকে সরিয়ে মেধাতালিকায় আট নম্বরে থাকা মো. শামীম আখতারকে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সাত জনকে ডিঙিয়ে। এক্ষেত্রে বিগত সরকারের অনিয়মের পথেই হেঁটেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রকৌশলী ও একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গণপূর্ত ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা খালেকুজ্জামানের চাকরি জীবনের বড় সময় কেটেছে অস্ট্রেলিয়ায়। স্ত্রী-সন্তান অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় সেখানে একাধিকবার যাতায়াত করেন। তবে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে উচ্চতর শিক্ষাছুটির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর লঘুদণ্ড দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তার বেতন স্কেলও এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এরপর নিজ জেলা ফরিদপুরের বাসিন্দা সাবেক দুদক কমিশনার মোজ্জাম্মেল হক খানের মাধ্যমে তদবির করেন খালেকুজ্জামান। একপর্যায়ে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকারের সময়ে আবেদন করেন তিনি। তৎকালীন সচিব এ বিষয়ে জনপ্রশাসনের মতামত চান। জনপ্রশাসন তাদের মতামতে তার জ্যেষ্ঠতা স্থগিত রাখার সুপারিশ করে। কিন্তু দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হকের সুপারিশ এবং অর্থের বিনিময়ে সাবেক সচিব ও গোপালগঞ্জের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি শহীদ উল্লাহ তাকে পদোন্নতি দেন।

পরে খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের সুপারিশে খালেকুজ্জামানকে খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী করা হয়। বিগত সরকারের আস্থাভাজন হওয়ায় গোপালগঞ্জের উন্নয়ন প্রকল্প দেখভাল করার জন্য তাকে গোপালগঞ্জ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন শামীম আখতার। পরে রুটিন দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে বরণ করে নিয়েছেন সহকর্মীরা।’ 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button