চুরির অপবাদে তিন নারীকে বেঁধে নির্যাতন, কেটে দেওয়া হলো মাথার চুল

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় চুরির অপবাদে তিন নারীকে বেঁধে নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে উপজেলার ডহরগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ডহরগাঁও এলাকার সেলিম মিয়ার বাড়িতে তিন নারী প্রবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণের চেইন চুরির চেষ্টা করার অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর না দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই তিন নারীকে আটক করেন। পরে দড়ি দিয়ে বেঁধে তাদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কাঁচি দিয়ে তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের কেউ কেউ নির্যাতনের পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তিন নারী অসহায় অবস্থায় কাঁদছেন এবং স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন। এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনেকে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন নারীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের থানায় নেওয়া হয়।
রূপগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চুরির অভিযোগ থাকলেও দেশের আইন অনুযায়ী বিচার করার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। কাউকে বেঁধে মারধর করা বা মাথার চুল কেটে দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে যারা এই নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
স্থানীয় সচেতন একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে এ ধরনের শাস্তি দেওয়া মধ্যযুগীয় বর্বরতার শামিল। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না পায়।



