Uncategorized

সীতাকুণ্ডে পার্ক থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার শিশুটির অস্ত্রোপচার 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় গলায় ছুরিকাঘাতে আহত আট বছরের কন্যাশিশুটির শ্বাসনালি কেটে গেছে। ফলে কথা বলতে পারছে না। তাকে উদ্ধারের পর রবিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সোমবার ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় রবিবার রাতে শিশুটির মা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেছেন। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন শিশুটির মা।’

এর আগে রবিবার সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ইকোপার্কের ভেতরের চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রামে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিল, তা তাৎক্ষণিক জানাতে পারেনি পুলিশ। 

এ ঘটনার বিচার চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও। তবে কে বা কারা ঘটনায় সম্পৃক্ত তা জানেন না স্বজনরা। তারা বলছেন, সে কীভাবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গেছে, সেটি জানা যায়নি। এখনও কথা বলতে পারছে না। কথা বলতে পারলে হয়তো বিস্তারিত জানা যেতো।

হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে শিশুটির চাচা বলেন, ‘আমার ভাই ও আমাদের বাসার মধ্যে আধা কিলোমিটার দূরত্ব রয়েছে। রবিবার সকালে সে ঘর থেকে বের হয়। ধারণা করছি, আমাদের বাড়িতেই আসার জন্য বের হয় ভাতিজি। কিন্তু পাহাড়ে কীভাবে গেলো, জানা নেই। আমরা এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার চাই।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ১০টার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে থাকা সহস্রধারা ঝরনার আরও অন্তত ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি পথের পাশে শিশুটি গলাকাটা অবস্থায় পড়ে ছিল। এ সময় তার গলা থেকে রক্ত ঝরছিল। সেখানে সড়কটির সংস্কারের কাজে থাকা শ্রমিকরা শিশুটিকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করেন। তাদের পরনের কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন। পরে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তারা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রাতেই অস্ত্রোপচার করা হলে অবস্থা উন্নত হয়। সোমবার আবারও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় ড্রেসিং করতে। এরপরই সেখান থেকে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি) নেওয়া হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘রবিবার শিশুটির অপারেশন (অস্ত্রোপচার) হয়েছে। আজ ড্রেসিং শেষে শিশুটিকে ওসিসিতে নেওয়া হয়েছে।’

 




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button