‘বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ গুলি করে আসবো’ বলা যুবদল নেতা গ্রেফতার

রংপুরে কারাগারে থাকা এক যুবলীগ নেতার ‘ডিশ-ইন্টারনেট’ ব্যবসা দখলচেষ্টার অভিযোগে জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে র্যাবের একটি দল। মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ও ক্যাবল ওয়ান নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় তামজিদুরকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব।
ক্যাবল অফিসে গিয়ে হামলা-ভাঙচুর ও ম্যানেজারকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যার হুমকির দেওয়ার অভিযোগের পর রবিবার রাতে যুবদলের ওই দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়।
র্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর, ভাঙচুর ও বাসায় গিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড পৃথক দুটি মামলা করে। মামলায় জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমানসহ (মনু) অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী ক্যাবল ওয়ানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রায়হান আহম্মেদ (পরাগ) ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের সহকারী হিসাব রক্ষক মো. রাসেল।
এর আগে রবিবার রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আকিবুল রহমান ও তামজিদুর রশিদকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরে মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ফিড অপারেটর হিসেবে ‘ক্যাবল ওয়ান নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নগরের কামাল কাছনা থেকে দখিগঞ্জ শ্মশান এলাকা পর্যন্ত কেবল ও ওয়াইফাই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পরিবারের দাবি, নতুন সরকার আসার পর তাদের ব্যবসা হস্তান্তর করতে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু রাজি না হওয়ায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে তাদের বৈধ ফিডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তারা থানায় আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার হারুন অর রশিদের স্ত্রী রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করেন।
রংপুর কোতোয়ালি থানায় করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আগের ঘটনার জেরে গতকাল রবিবার বিকাল ৪টার দিকে রংপুর নগরের স্টেশন রোডে ক্যাবল ওয়ানের কার্যালয়ে তামজিদুর রশিদ, আকিবুল রহমানসহ ১৫-২০ জন প্রবেশ করে ব্যবস্থাপক রায়হান আহম্মেদকে মারধর ও কার্যালয়ের ল্যাপটপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। তারা তামজিদুর রশিদকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেন।
এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ক্যাবল ওয়ান কার্যালয়ে অবস্থানের একপর্যায়ে যুবদল নেতা আকিবুল রহমান মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপক মাহাদি হাসানকে মোবাইলে কল করে গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় আকিবুল বলেন, ‘লাইনের কী সমাধান করবেন। তুই (মাহাদি হাসান) আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। তোর বাসায় গিয়ে গুলি করে আসবো। আজকে বিকালের মধ্যে যদি সমাধান না করিস, তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসবো।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ‘রবিবার রাতে মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ও ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তামজিদুর রশিদ ও আকিবুল রহমানের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের নামে দুটি মামলা করেছে। এরই মধ্যে তামজিদুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।’



