টাকা নিয়ে শর্ত সাপেক্ষে বই প্রকাশ করছে : দিলারা হাফিজ

উমামা জামান মিম: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?
দিলারা হাফিজ: আমার একটি গবেষণাগ্রন্থ “বাংলাদেশের কবিতায় ব্যক্তি ও সমাজ (১৯৪৭–১৯৭১)” শিরোনামে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ২০০২ সালে। এই বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে এবছর কলকাতার ‘আলোপৃথিবী’ প্রকাশনী থেকে এবং বাংলাদেশের ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশনী থেকেও একটি সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে। তাছাড়া দেশ ও দেশের বাইরে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কয়েকটি দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমণগদ্যের বই প্রকাশিত হবে ‘স্টুডেন্ট ওয়েজ’ প্রকাশনী সংস্থা থেকে।
প্রশ্ন: বইগুলো পাঠকদের কিছু বলুন? বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কি এই বইগুলোর বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করেছে?
উত্তর: নিকট বর্তমান সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রভাব কিছু নেই আমার এই বইটিতে। তবে ১৯৪৭-এর দেশভাগের পটভূমি থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাতাবরণ পার হয়ে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ অবধি ঘটনা প্রবাহের ধারাবাহিক একটি শৈল্পিক চিত্র পাওয়া যাবে। বিশেষভাবে বাংলার কৃষিজীবী সমাজ থেকে উঠে এসে আলোচ্য সময়ের কবিবৃন্দ ভাষার জন্যে যে লড়াই করেছেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিবাদী হয়েছেন, সর্বোপরি নাগরিক জীবনের ক্লেদ, ক্ষোভ, বাদ-প্রতিবাদ, প্রেম ও দ্রোহ আত্মস্থ করে বাংলা কবিতায় কীভাবে তা ফুটিয়ে তুলেছেন—কবিদের সেই অবদান তুলে ধরা হয়েছে। এই বইটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের সাহিত্য কোর্সের রেফারেন্স বই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছে।
প্রশ্ন: শুরু থেকেই মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছিল, এমন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইভেন্টের প্রতি কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা আছে?
উত্তর: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা পুরো দেশকে যেখানে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে—সেখানে প্রতিবছরের ন্যায় বইমেলা নিয়ে প্রকাশক লেখক কীভাবে নিশ্চিত থাকবেন? সেই অর্থে কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা প্রকট বলে আমি মনে করি না।
প্রশ্ন: সময় কমিয়ে আনা ও রমজানের কারণে মেলায় কেমন প্রভাব পড়বে?
উত্তর: রমজান মাসটি ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্যে সংযম ও পরিশুদ্ধির মাস। কাজেই কবি সাহিত্যিক প্রকাশকের সম্মিলনে বইমেলায় যে আমেজ— আমাদের জাতীয় জীবনের শিক্ষা-শিল্প-সাংস্কৃতিক জীবনকে আন্দোলিত করে প্রবহমান থাকে— সেখানে রমজানের জন্যে বাজেট ভাগ হয়ে পড়ে। প্রকাশকদের বই বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না বলেই জানি।
প্রশ্ন: গত বছর মেলা নিয়ে প্রকাশকদের হতাশা দেখেছি, অনেকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল—এ বছর এমন কিছু আশঙ্কা আছে?
উত্তর: নিরাপত্তা নিয়ে জনজীবন এমনিতেই আতঙ্কে আছে। রাস্তা-ঘাটে বেরুতেই সাতবার ভাবতে হয়। সেখানে বইমেলার বিশাল প্রান্তরের নিরাপত্তা নিয়ে লেখক-পাঠক-প্রকাশকের মধ্যে শঙ্কা তো থাকবেই। তবে আমি মনে কর্তৃপক্ষ যদি নিরাপত্তা দিতে চায়, অবশ্যই সেটি সম্ভব।
প্রশ্ন: একটি সুন্দর বইমেলা আয়োজন করতে কী কী পদক্ষেপ নিলে ভালো হয়?
উত্তর: “সুন্দর” বইমেলার জন্যে খুব বেশি পদক্ষেপের দরকার নেই। আয়োজক কর্তৃপক্ষ যদি চায় তবে অবশ্যই বইমেলা সুন্দর করা সম্ভব। আমাদের অনেক প্রকাশক ও লেখকেরা বিদেশের বিখ্যাত ও বৃহত্তম বাণিজ্যিক বইমেলায় যায়। সেখানে কীভাবে এত সুন্দর ও বৃহৎ বইমেলা সম্পন্ন করছে মেলা কর্তৃপক্ষ, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও অনেক কিছু জানা যায়, শেখা যায় এবং নিজের দেশের বইমেলার জন্যে তা অ্যাপ্লাই করা যায়। আমাদের রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ বা কর্তাব্যক্তিরা আদৌ তেমন সুন্দর বইমেলা উদ্যাপন করতে চায় কিনা—সেটাই লক্ষ টাকার প্রশ্ন।
প্রশ্ন: বইমেলায় পাঠক-লেখক সম্পর্ক বা যোগাযোগের বর্তমান বাস্তবতা কী?
উত্তর: বইমেলায় পাঠক-লেখক সম্পর্ক চমৎকার। এই সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যে সারা বছর এই বইমেলার জন্যে আমরা অপেক্ষা করি। নবীন প্রবীণ লেখকদের সঙ্গে দেখা হয়, পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে বইমেলা।
প্রশ্ন: প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে কিন্তু বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকরা কতটা সচেতন বলে মনে করেন?
উত্তর: প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে—খুব সত্যি কথা। কিন্তু বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকদের মাথা ব্যথা নেই—কারণ লেখকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শর্ত সাপেক্ষে বই প্রকাশ করছে তারা। কাজেই লেখক যেমনই হোক না কেন, টাকা পেলেই তারা বই ছেপে দেয়। বিশেষভাবে বিদেশে অবস্থানরত লেখকদের মাধ্যমে এই ধারার সূত্রপাত হয়েছে। ইদানীং দেশের লেখকেরা এটি করতে বাধ্য হচ্ছে। সব প্রকাশক এমন—তা বলছি না, তবে অধিকাংশ প্রকাশক এ জাতীয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।



