বিচারাঙ্গনে নারী: সম্ভাবনার পাশাপাশি আছে প্রতিবন্ধকতাও

দেশের বিভিন্ন পেশাজীবীদের মতো আইনাঙ্গনেও আলো ফেলছেন নারীরা। কঠিন এই পথ চলায় তারা প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হচ্ছেন শত শত প্রতিবন্ধকতার। তবু থেমে নেই। সব প্রতিবন্ধকতাকে পিছে ফেলে তারা বিচারাঙ্গনে জানান দিচ্ছেন নিজেদের। তবে পুরুষ ভাবাপন্ন মানসিকতার সঙ্গে পাল্লা দিতে তাদের আরও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পাঁচ বিচারপতির মধ্যে একজন, হাইকোর্ট বিভাগে ৯৭ বিচারপতির মধ্যে ৯ জন এবং সারা দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে ২ হাজার ২৩৩ বিচারকের মধ্যে ৬৭৭ জন নারী বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
বিচারিক দায়িত্বের পাশাপাশি আইনজীবী হিসেবেও নারীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সারা দেশের নারী আইনজীবীদের সঠিক সংখ্যা কত তা না জানা গেলেও পেশার প্রতি তাদের আগ্রহ ও অবস্থান দৃঢ় হচ্ছে বলে মনে করছেন পেশার জ্যেষ্ঠ নারী আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ড. রাবিয়া ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পরিবার-সংসার সামলে মেয়েদের অনেকেই এখন আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটি অবশ্যই প্রশংসার। দিন দিন নারীদের উপস্থিতি কোর্ট অঙ্গণে বৃদ্ধি পেয়েছে; যা অনেকটা আনন্দের। মেয়েরা পারে না, আমি এটা বিশ্বাস করি না। তবে কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। সর্বক্ষেত্রে মানুষ ওপরে উঠতে চাইলেও কিছু পিছুটান থাকে। আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলায়নি। অনেকেই মেয়েদের ঘরে দেখতে পছন্দ করেন। তবুও আমি মনে করি, মেয়েদের অনেক কাজ করার মতো যোগ্যতা রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ মনে করেন, বর্তমান সময়ে আইন পেশায় অনেক নারী আইনজীবীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আইনজীবী সংখ্যা ও অধস্তন আদালতে নারীদের উপস্থিতি বেড়েছে। অধস্তন আদালত থেকে নারীদের এনে নারী বিচারকদের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি করা হচ্ছে। তারা পারবেন কিনা এমন শঙ্কা থাকলেও রিটসহ বেশ গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চে বিচারের দায়িত্ব পাচ্ছেন তারা এবং তারা ভালো করছেন।
তবে প্রতিবন্ধকতার প্রসঙ্গ তুলে ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আইন পেশায় অনেক নারী এসে অনেকে বড় বড় চেম্বারে জয়েন করছেন। তাদের কেউ কেউ ভালো করছেন। আর্থিকভাবে ভালো আছেন। তবে এই পেশায় তাদেরও নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। আবার কখনও কখনও তাদের চলাফেরাও তাদের পেশায় গুরুত্বারোপের ক্ষেত্রে দুর্বল করে দিচ্ছে।
পরামর্শ দিয়ে ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, আমি মনে করি, নারী আইনজীবীদের আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এখানে একটি দুঃখ থেকে যায়, নয়তো তারা পুরুষদের সঙ্গে যোগ্যতায়-দক্ষতায় সমান হয়ে উঠবেন না। সমান সমান ভূমিকা পালন করতে পারবেন না। সবাই ব্যারিস্টার রফিকুল হকের মতো নামকরা পুরুষ আইনজীবীদের সমর্যাদায় যেতে পারবেন না। আমরা নারী আইনজীবী, এই ভেবে অনেকেই আমাদের পুরুষের সমকক্ষ মনেও করছে না। তাই পুরুষদের তুলনায় নারীদের প্যারালাল ল’ ইয়ার হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।



