Uncategorized

বিচ্ছেদের পর যে প্রশ্নে ক্লান্ত সেলিনা জেটলি

দীর্ঘদিনের নীরবতার পর ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন বাস্তবতা সামনে এনেছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। স্বামী পিটার হাগ-এর প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গত বছরের নভেম্বরে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন অভিনেত্রী।

বরাবরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে হাসি-খুশি ছবি শেয়ার করতেন বলে, এমন খবর অনেককেই বিস্মিত করেছে। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রতি সমাজের সবচেয়ে প্রচলিত প্রশ্নটি নিয়ে কথা বলেন। সেটি হলো এমন, ‘তুমি আগে চলে গেলে না কেন?’

মূলত এই প্রশ্নেই ক্লান্ত সেলিনা।

পোস্টে সেলিনা লিখেছেন, ‘অনেকেই জানতে চান, একজন শিক্ষিত ও সফল নারী কীভাবে ১৫ বছর ধরে এমন নির্যাতনমূলক সম্পর্কে থাকতে পারেন। কেন তিনি আগেই সংসার ফেলে চলে গেলেন না! তিনি নিজেও বহুবার নিজেকে একই প্রশ্ন করেছেন- প্রথমবার ঘটনার পর কেন চলে যাননি? দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার কেন অপেক্ষায় ছিলেন?’

এর উত্তরও খোঁজার চেষ্টা করেছেন তিনি। তার মতে, ‘বাস্তবতা মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক জটিল। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্যাতন শুরু হয় না সহিংসতা দিয়ে; শুরু হয় ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি ও গভীর আবেগ দিয়ে। ধীরে ধীরে তৈরি হয় নির্ভরশীলতা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।’ তিন সন্তানের সঙ্গে সেলিনা জেটলি ‘একসময় আচরণ বদলে যায়। কিন্তু সেটিও সবসময় নয়। মাঝে মাঝে ভালো দিন আসে, ক্ষমা চাওয়া হয়, পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সেই সামান্য আশাই মানুষকে সম্পর্ক ধরে রাখতে প্রলুব্ধ করে।’ নির্যাতনের পরেও সংসারে আটকে থাকার বাস্তবতা তুলে ধরেন এভাবে।

আরও বলেন, ‘মানসিক ও মৌখিক নির্যাতনের কোনও দৃশ্যমান দাগ থাকে না। আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। প্রথম ঘটনা মানুষকে বিস্মিত করে, আর অনেকবার ঘটলে সেটিই যেন স্বাভাবিক হয়ে যায়।’

সেলিনা জানান, ছোটবেলা থেকে অনেকেই শিখে বড় হন যে, বিয়ে একটি পবিত্র সম্পর্ক। তাই সমস্যা দেখা দিলে অনেকে মনে করেন আরও চেষ্টা করলে, আরও ভালোবাসলে হয়তো সম্পর্কটি ঠিক হয়ে যাবে। এই বিশ্বাসই অনেক সময় মানুষকে দীর্ঘদিন সেই সম্পর্কে আটকে রাখে। সেলিনা নিজেও তেমনটা বিশ্বাস করছিলেন সংসারজীবনে।

এদিকে সেলিনার আইনজীবীর দাবি, পিটার হাগ গত বছর অস্ট্রিয়ার আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ভিয়েনায় থাকা কিছু সম্পত্তি স্ত্রীর অজান্তেই বিক্রি করার বিষয়টি জানার পর থেকেই তাদের সম্পর্কের টানাপড়েন বাড়ে। সেলিনা জেটলি আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, পিটার হাগ আদালতে দাবি করার চেষ্টা করছেন যে সেলিনার ওই সম্পত্তিগুলোর ওপর কোনও অধিকার নেই। অন্যদিকে সেলিনা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিলেও তাতে তিনি রাজি হননি।

বর্তমানে সেলিনা মাসিক ১০ লাখ রুপি ভরণপোষণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি তার মুম্বাইয়ের বাসায় স্বামীর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং তিন সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়েছেন। সন্তানরা বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় বাবার সঙ্গে রয়েছে। এছাড়া স্বামীর কারণে কর্মজীবনের ক্ষতির অভিযোগ তুলে ৫০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তিনি।

বলা দরকার, ২০১০ সালে সেলিনা জেটলি ও পিটার হাগ বিয়ে করেন। ২০১২ সালে তাদের যমজ সন্তান জন্ম নেয়। পাঁচ বছর পর আবারও যমজ সন্তানের জন্ম দেন তিনি, তবে তাদের একজন হৃদরোগে মারা যায়। সেলিনা জেটলি সূত্র: এনডিটিভি




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button