বাংলাদেশকে সমীহ করছে উজবেকিস্তান, তবে…

নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের মতো উজবেকিস্তানের সামনেও রয়েছে সমান সুযোগ। কাল সোমবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ খুলে যাবে। তাই পার্থে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি দুই দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে এসে উজবেকিস্তানের কোচ ও অধিনায়ক বাংলাদেশকে যথেষ্ট সমীহ করার পাশাপাশি নিজেদের লক্ষ্যও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।
উজবেকিস্তান প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। এর আগে পাঁচবার গ্রুপ পর্বে খেললেও কখনও নকআউট পর্বে যেতে পারেনি। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চায় দলটি। দলের অন্যতম খেলোয়াড় ইলভিনা অ্যাবলিয়াকিমোভা কোচের পাশে বসে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের শতভাগ শক্তি দিয়ে আগামীকালের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমরা মাঠে নামবো এই ম্যাচটি জেতার জন্য।’
বাংলাদেশ দলকে প্রশংসা করতেও ভুল করেননি উজবেকিস্তানের কোচ কোত্রিনা কুলবাইত। তিনি বলেছেন, ‘দুই দলই প্রথম দুই ম্যাচে হেরেছে। আমরা শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলেছি, তাই আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য কী। বাংলাদেশ সম্পর্কে বলতে পারি তারা একটি গতিশীল দল। মাঠের পারফরম্যান্সে তারা বেশ বিনয়ী। আমি তাদের খেলা দেখেছি, তাদের কিছু দ্রুতগতির খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে আক্রমণভাগে। আমাদের জন্য এটি সহজ ম্যাচ হবে না, কারণ এশিয়ান কাপে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। আমাদের লক্ষ্যের কথা বললে, অবশ্যই আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামবো।’
তবে শুধু জয় পেলেই হবে না—চোখ রাখতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর দিকেও। এ প্রসঙ্গে উজবেক কোচ বলেন, ‘গাণিতিক সমীকরণের কথা বললে, সেটা এখন বলা কঠিন, কারণ অন্য গ্রুপগুলোতেও অনেক খেলা বাকি। আজ ‘এ’ গ্রুপের খেলা আছে, আমাদের পর ‘সি’ গ্রুপের খেলা। যেকোনও কিছু ঘটতে পারে। তবে আমরা যদি মাঠে সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারি, পরে পয়েন্ট টেবিলের দিকে তাকানো যাবে।’
কার্ড সমস্যার কারণে এই ম্যাচে একাদশের দুজন খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না উজবেকিস্তান। তবে এ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন লিথুনিয়া থেকে আসা তাদের কোচ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ২৬ জন খেলোয়াড় আছে, যারা সবাই খেলার জন্য প্রস্তুত। এমনকি টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আমরা পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম কোন ম্যাচে কোন খেলোয়াড় খেলবে। এশিয়ান কাপের আগে আমাদের প্রীতি ম্যাচগুলোতেও আমরা সেটা পরখ করেছি। তাই বিকল্প খেলোয়াড় আছে এবং সবাই আগামীকালের জন্য প্রস্তুত।’
এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারের প্রশংসাও করেন উজবেকিস্তানের কোচ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গোলকিপার চমৎকার খেলছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সে গোলপোস্টের নিচে খুবই সাহসী। তার জন্য অনেক অভিনন্দন। তাদের আক্রমণভাগেও বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। তবে দিনশেষে আমরা নিজেদের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে সেরাটা খেলতে হবে। অন্যদের নিয়ে খুব বেশি ভাবার প্রয়োজন নেই।’


