স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। তার দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হেয় করার জন্য এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নাম মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন (৪৭)। তিনি গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।
গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার (৭ মার্চ) রাতে মো. আরিফুজ্জামান খান বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ করেন। এতে আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. আরিফুজ্জামানের ভাই মো. নুরুজ্জামান রানা একজন ব্যবসায়ী। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার ১৮টি পরচুলার ব্যবসা রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খারাপ প্রকৃতি মানুষ ও পাশের গ্রামের বাসিন্দা। রানার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব জায়গায় আব্দুর রহমান ইসলামিয়া মাদরাসা এবং পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরি রয়েছে। মাদরাসায় অনুমানিক দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আর পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরিতে ২৫০ জনের অধিক কর্মচারী আছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মননের নেতৃত্বে অন্যান্য অভিযুক্তরা নুরুজ্জামান রানার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরবর্তীতে এ ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ফ্যাক্টরি ও মাদরাসা বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দেয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দু’দিন পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন আবারও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি করা চাঁদা দিলে আর কোনও ঝামেলা করবে না বলে জানান তিনি। ফের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা রানাকে প্রাণনাশের ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে।
এমতাবস্থায় গত ৬ মার্চ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাদরাসার ছাত্র ও পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরির কর্মীদের নিয়ে মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতার মাহফিল উপলক্ষে ব্যবসায়ী রানা দেড় বছর পর ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে সেখানে যান ও আয়োজনের বিভিন্ন কাজে তদারকি করেন।
ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন মনন, মীর রাসেল, মীর টুইংকেল, বিটু, সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জন ৯টি মোটরসাইকেল ও তিনটি অটোরিকশাযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদরাসার সামনে আসে। ওই সময় অভিযুক্তরা রানাকে ডেকে নিয়ে তাৎক্ষণাক ১০ লাখ টাকার দাবি করে। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
আরিফুজ্জামান বলেন, “শনিবার রাতে অভিযোগ করার পর আমাকে কয়েকজন সন্ত্রাসী রাস্তায় দাঁড় করিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। বাড়ি না ছাড়লে আমার ও পরিবারের ক্ষতি করবে জানায়।”
অভিযোগ অস্বীকার করে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন বলেন, “রানা ও তার সহযোগীরা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসর। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো তখন তারা আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছিলো। পূর্ব থেকে তার সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছে। যে কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।”
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, “লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



