বিবি না থাকলে ইসরায়েল থাকত না: দাবি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘যৌথভাবে’ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ও নেতানিয়াহু না থাকলে ইরান এত দিনে ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দিত। ট্রাম্প বলেন, ইরান ইসরায়েল ও এর আশপাশের সবকিছু ধ্বংস করতে চেয়েছিল। আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আমরা এমন একটি দেশকে ধ্বংস করেছি, যারা ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল।
যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত কি ট্রাম্প একাই নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি যৌথ সিদ্ধান্ত হবে। আমাদের মধ্যে কথা হচ্ছে। আমি সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেব, তবে সব বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার হলেও এতে নেতানিয়াহুর বড় প্রভাব থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করার পরও ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাবে কি না, এমন তাত্ত্বিক প্রশ্নে ট্রাম্প মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, আমার মনে হয় না তার প্রয়োজন হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত শুক্রবার জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন এই যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে বলে আশা করছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার পর ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেন, হোয়াইট হাউসের অনুমোদন না থাকলে ইরানের পরবর্তী নেতা বেশিদিন টিকবেন না। তবে মোজতবার নির্বাচন নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তিনি বলেন, দেখা যাক কী হয়।
ঘুষ ও জালিয়াতির মামলায় বিচারাধীন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা না করায় ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের আবারও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি হারজগকে ‘লজ্জা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বিবি নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। হারজগ এটি না করে ভয়াবহ কাজ করছেন। আমরা চাই বিবি যুদ্ধের দিকে নজর দিক, এই হাস্যকর ক্ষমার বিষয়ে নয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে হামাসকে অস্ত্রত্যাগে বাধ্য করা সহজ হবে কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধের কারণে অনেকেই নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটবে। কারণ ইরান এখন এমন এক অবস্থায় আছে যা আগে কখনও ছিল না। তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।


