Uncategorized

ভবন নির্মাণে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রবাস ফেরত এক ব্যক্তির কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

মামলার বাদী শাহাদাত পাটোয়ারী (৪৬) লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আমলি অঞ্চল রামগঞ্জে সিআর মামলা করেন। মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ইছাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাগর হোসেন শুক্কুর (৩৬)। তিনি উপজেলার সোন্দড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

এ বিষয়ে সৌদি আরব প্রবাসী শাহাদাত পাটোয়ারী জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর ধরে সৌদি আরবের মদিনায় বসবাস করছেন এবং মাঝে মধ্যে দেশে আসেন। সম্প্রতি দেশে অবস্থানকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং তার বাড়ির গেটেও এসে ছেলের কাছে তার খোঁজ নেন। পরে গত শনিবার (৭ মার্চ) ইফতারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তাকে আওয়ামী লীগের লোক বলে উল্লেখ করেও চাপ প্রয়োগ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রামগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত পাটোয়ারী তার পৈতৃক ভিটায় একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্ত সাগর হোসেন শুক্কুর তার ও তার স্ত্রীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়য়, গত শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন থেকে বাদীর নম্বরে কল করে পুনরায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন সাক্ষীর সামনে ফোনের লাউড স্পিকার চালু করে কথোপকথন শোনানো হয় এবং এর আংশিক রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে বাদী দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাগর হোসেন শুক্কুর। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে কারী বাজারে আমার সাইকেল ও পার্টসের দোকান ছিল। তখন শাহাদাত পাটোয়ারী প্রভাব খাটিয়ে আমার দোকান ভাঙচুর করেন এবং আমার ওপর হামলা চালান। এতে আমি রামগঞ্জের একটি হাসপাতালে ২২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলাম এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমি তার কাছে কোনও ধরনের চাঁদা দাবি করিনি। আমাকে হয়রানি করতেই মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান মামলার আইনজীবী। 

রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে মামলা আকারে করা হয়েছে, তাই আদালত থেকে তদন্তের নির্দেশনা থানায় এলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button