ছাত্রলীগ সন্দেহে দিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের ওপর ছাত্রলীগ অভিযোগে হামলার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেন তারা।
এসময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (একাংশ) ঢাবি শাখার সদস্য সচিব অদিতি ইসলাম বলেন, “কোনও মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তার ওপর প্রমাণ ছাড়াই হাত তোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্রশক্তি’ নামক সংগঠনের কর্মীরা একজনকে পাঁচ দফায় পিটিয়েছে, শিকল দিয়ে মেরেছে এবং তার আঙুল থেঁতলে দিয়েছে। এই ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিউর জামান জুয়েল বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু বর্তমানে জুলাইয়ের দোহাই দিয়ে যে ‘মব কালচার’ তৈরি করা হচ্ছে, তা ওই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি। এরা জুলাইয়ে সামাজিক চুক্তিকে ভঙ্গ করে ছাত্র রাজনীতিকে ভঙ্গুর করছে। যাকে ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলা হয়।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী আবু মুজাহিদ আকাশ বলেন, “যদি কেউ পূর্ববর্তী সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকে কিংবা কোনও অপরাধ করে থাকে, তবে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। কিন্তু তাকে মব করে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা বা মেরে ফেলা কোনও সমাধান নয়।”
বক্তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে হত্যা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে এই সংস্কৃতির নিন্দা জানান।



