বকেয়া বিল পরিশোধে অর্থের সংকট থাকলে সরকার চাইলে বন্ড দিতে পারে

বকেয়া বিল পরিশোধে অর্থের সংকট থাকলে সরকার চাইলে বন্ড দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, অর্থ বা বন্ড— এর যেকোনো একটি ছাড়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দীর্ঘদিন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম।
তিনি বলেন, “তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৮ থেকে ১০ মাসের বকেয়া পড়ে আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার পাওনা রয়েছে। ধারদেনা করে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর মতো অবস্থানে এখন আর উদ্যোক্তারা নেই।”
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে ইমরান করিম বলেন, “কাগজে-কলমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৮৪ মেগাওয়াট বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গ্যাস ঘাটতির কারণে ৬ হাজার ৬৯৪ মেগাওয়াট, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১ হাজার ৬২৬ মেগাওয়াট, রাতে সৌর বিদ্যুৎ না থাকায় ৭৬৯ মেগাওয়াট এবং ডিজেল থেকে ৭৬৮ মেগাওয়াট উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। এসব বাদ দিলে প্রকৃত উৎপাদনযোগ্য বিদ্যুৎ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ হাজার ৬২৬ মেগাওয়াট। সবকিছুর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “সামনে গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।”
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট কেএম রেজাউল হাসানাত বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে দেশের প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না, যা বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। শিগগিরই গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনাও কম।”
সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, “বিদ্যুৎ খাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের কারণে দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে। আগে বিদেশ থেকে প্রকৌশলী আনতে হলেও এখন দেশীয় প্রকৌশলীরাই বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান করছেন।”
এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে ইমরান করিম বলেন, “বর্তমান মজুত দিয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালাতে পারবে। তবে সব কেন্দ্রের ক্ষেত্রে সময়সীমা এক হবে না, কিছু কেন্দ্রের তেল এর আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে।”
তিনি জানান, বকেয়া বিল সময়মতো পরিশোধ এবং নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও দেশীয় উদ্যোক্তারা তা করছেন না বলেও জানান তিনি।
বিআইপিপিএ নেতারা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আগামী ১০ মার্চ তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।



