Uncategorized

ইরানের সেই স্কুলে হামলার ভিডিও প্রকাশ, দায় এড়াতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি নৌঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নতুন ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মুহূর্ত পর পাশের একটি স্কুল ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে শুরু করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন শিশু এবং ১৪ জন শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রবিবার (৯ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। যুদ্ধ শুরুর দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই হামলা চালানো হলেও ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো এই দৃশ্য সামনে এলো।

একটি নির্মাণস্থল থেকে ধারণ করা ওই ভিডিওটি বিশ্লেষণ করেছেন অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার জানান, ভিডিওতে যে অস্ত্রটি দেখা গেছে, তার আকার ও বৈশিষ্ট্য মার্কিন নৌবাহিনীর টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি নৌঘাঁটির ভেতরের ভবনে আঘাত হানে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি ঘাঁটির ভেতর থাকা একটি মেডিক্যাল ক্লিনিকের ওপর বা তার কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ক্যামেরা ঘোরালে পাশের স্কুল ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্কুল ও সামরিক ঘাঁটি একই চত্বরের অংশ ছিল। ২০১৬ সালে একটি সীমানা দেয়াল দিয়ে তাদের আলাদা করা হয়।

দায় নিয়ে বিতর্ক ও তদন্ত

ভিডিওটি প্রকাশের পর হামলার দায় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, এই হামলা ইরান নিজেই চালিয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এখনও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনও মন্তব্য করেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার আঘাতে এত নির্ভুলভাবে দুটি আলাদা ভবনে বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা কম। তাদের ধারণা, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও নির্ভুল লক্ষ্যভিত্তিক হামলা হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে জানান, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় উত্তরে ইসরায়েল এবং দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়েছে।

তবে স্কুল ভবনে কোন ধরনের অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, তার নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও প্রকাশিত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধ্বংসাবশেষের নমুনা বিশ্লেষণ করা গেলে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং এর উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button