‘এক ফোঁটা’ তেলও রফতানি হতে দেবে না ইরান, ট্রাম্পের পাল্টা হুমকি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চল থেকে ‘এক ফোঁটা তেলও’ রফতানি হতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেল সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করলে ইরানকে ‘আরও কঠোরভাবে’ মোকাবিলা করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেন, যুদ্ধের সমাপ্তি কীভাবে হবে তা ইরানই নির্ধারণ করবে। তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ববর্তী আলোচনার ‘তিক্ত অভিজ্ঞতার’ কারণে আবারও আলোচনায় বসার সম্ভাবনা কম।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে ‘২০ গুণ বেশি শক্তিশালী’ হামলা চালানো হবে। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি একই সতর্কবার্তা দেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে শুরু করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের দাবি, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস সতর্ক করেছেন যে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ফলে খাদ্য, পানি ও বায়ু দূষণের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। তবে ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলার পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এর আগের দিন তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৭ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন আগামী মাসগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়বে। মাত্র ২৯ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন।
সূত্র: রয়টার্স



