Uncategorized

প্রকাশনা শিল্প এখনো বাণিজ্যিক রূপ পায়নি : শারমিনুর নাহার

উমামা জামান মিম: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

শারমিনুর নাহার: মেলায় প্রকাশিত আমার নতুন বইয়ের নাম ‘ইলা মিত্র’। কথাপ্রকাশের জীবনী গ্রন্থমালা সিরিজের বই।

প্রশ্ন: বইটি নিয়ে পাঠকদের কিছু বলুন।

উত্তর: আমরা সমাজে যেসব আন্দোলন দেখি সেটা রাজনৈতিক হোক, সামাজিক হোক কিংবা সমাজ-সংস্কারবাদী হোক—সব বিদ্রোহ ও সংগ্রামের পেছনেই কোনো না কোনো চেতনা কাজ করে। ইলা মিত্র একটা চেতনার নাম, একটা সংগ্রামের নাম। তাঁর জীবন, সংগ্রাম এবং যে ইতিহাসের মধ্য দিয়ে উনি উঠে এসেছেন সেটা অনুপ্রেরণামূলক। এবছর ইলা মিত্রের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয়েছে, সেই উপলক্ষ্যেই বইটির আয়োজন। এ বইটি সহজ প্রাঞ্জলভাষায় ইতিহাসের মধ্য থেকে ব্যক্তি ইলা মিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে। কিশোর পাঠ উপযোগী ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনা, তেভাগা আন্দোলনের কারণ, ফলাফল সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার আলো ফেলে দেখার চেষ্টা হয়েছে। তাই একই সঙ্গে ব্যক্তি ইলা মিত্রকে জানা এবং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণকে অনুসন্ধান এ বইয়ের মূল সফলতা।

প্রশ্ন: সময় কমিয়ে আনা ও রমজানের কারণে মেলায় কেমন প্রভাব পড়বে?

উত্তর: কিছুটা প্রভাব হয়তো পড়বে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে দেখতে গেলে যারা পাঠক, যারা বই কেনেন তারা কিন্তু সব সময় মেলার জন্য অপেক্ষা করেন না। মেলায় গেলে সবার সঙ্গে দেখা হয়, একটা হৃদ্যতা গড়ে ওঠে সেটা একটা আলাদা পাওনা। লেখকদের পাঠকের সঙ্গে দেখা হয়। বাংলা একাডেমি লেখকদের নিয়ে নানা আয়োজন করে। এসব তো মেলা ছাড়া হতো না। কিন্তু বই কেনা-বেচা আসলে সারা বছরই চলতে থাকে।

প্রশ্ন: গত বছর মেলা নিয়ে প্রকাশকদের হতাশা দেখেছি, অনেকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল—এ বছর এমন কিছু আশঙ্কা আছে?

উত্তর: আমি আশাবাদী মানুষ। নিরাপত্তা নিয়ে গত বছর হয়ত অন্য বাস্তবতা ছিল। এ বছর নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল। তারপরেও প্রতিদিন নানা ঘটনা ঘটছে। বিশ্ব বাস্তবতা বদলে গেছে। মার্কিন আগ্রাসন দেশে দেশে বাড়ছে। ফলে স্থিতি কীভাবেইবা বলি। আর প্রতিবছর বইমেলায় কিছু না কিছু তো ঘটেই। নিরাপত্তার প্রশ্ন তাই সব সময় থাকেই।

প্রশ্ন: একটি সুন্দর বইমেলা আয়োজন করতে কী কী পদক্ষেপ নিলে ভালো হয়?

উত্তর: বইমেলার আয়োজনের সঙ্গে যারা জড়িত উনারা সবসময় চেষ্টা করেন ভালো একটা মেলা করার। আমার কাছে মনে হয়েছে—স্টল গুলো ঠিকঠাকমতো খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক কোনো বইমেলার প্রযুক্তিগত দিকটি অনুসরণ করা যেতে পারে। বইমেলা সংক্রান্ত অ্যাপস ব্যবহার করা যেতে পারে। যে অ্যাপসটা দিয়ে নির্দিষ্ট স্টল বা বই সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: মেলায় এবং সারা বছর যত বই প্রকাশিত হয় তার ডিজিটাল ডেটাবেইজ কি বাংলা একডেমি বা কোনো কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করতে পারে?

উত্তর: সব বই সংরক্ষণ করবে কিনা সেটাও ভেবে দেখা যেতে পারে। ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে নতুন বইয়ের পাশাপাশি পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো শুরুতেই ডিজিটালাইজড করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও রেফারেন্স দিতে গেলে বইয়ের বা জার্নালে রেফারেন্স দিতে হয়, যদি ডিজিটালাইজ থাকে সেই রেফারেন্স দিতে সুবিধা হয়। তাই ডিজিটাল ডেটাবেইজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা করা জরুরি বলে মনে করি।

প্রশ্ন: প্রচুর বই ছাপা হচ্ছে কিন্তু বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকরা কতটা সচেতন বলে মনে করেন?

উত্তর: প্রকাশকরা কতটা সচেতন এটার অনেকটা সম্পাদনার উপর নির্ভর করে। অনেকে বই ছাপাতে চান বলে ছাপিয়ে ফেলেন। কারণ অন্য দেশের বাস্তবতা আর আমাদের দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। প্রকাশনা শিল্পটা এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রূপ পায়নি আমাদের দেশে। বাণিজ্য হয়ে উঠলে আমরা পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে যেমনটা দেখি যে, তারা লেখককে আগে তৈরি করেন, লেখককে নিয়ে সেমিনার করে, তারপরে সেই লেখকের বই প্রকাশকরা সম্পাদনা করেন, কত কপি ছাপবেন নির্ধারণ করেন। সেরকম হয়তো সব লেখকের ক্ষেত্রে করা সম্ভব হবে না, কিন্তু বড়ো বড়ো প্রকাশক যারা আছেন, যারা দীর্ঘদিন থেকে এখানে কাজ করছেন, তারা যদি মনে করেন এরকম কিছু তারা শুরু করতে পারেন। সে যদি পাঁচ বছরের পরিকল্পনা আগে থেকে রেডি করতে পারেন। যেমন, পাঁচ বছরে আমি আমার প্রকাশনীকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই—এমন পরিকল্পনা করে কাজ করতে পারেন।

এছাড়া দেশের বাইরে যেখানে মেলা হচ্ছে সেগুলোতে অংশ নেয়া। এখন সারা পৃথিবীতে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী আছে। ফলে কেবল কলকাতা নয়, সারা বিশ্বেই বাংলা বইয়ের পাঠক তৈরিতে মনোনিবেশ করা দরকার। বইয়ের বাণিজ্য বিশ্বব্যাপী, তাই আমাদের প্রকাশকদের ভাবনাকে আন্তর্জাতিক করতে হবে।

প্রশ্ন: কোন প্রকাশনী থেকে আসছে? মূল্য, প্রচ্ছদ ও স্টল নম্বর জানতে চাই?

উত্তর: বইটি ‘কথা প্রকাশ’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। মূল্য ৩০০ টাকা এবং প্রচ্ছদ করেছেন আনিসুজ্জামান সোহেল।




Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button