শিক্ষকদের মেডিটেশন: এত প্রশিক্ষক আছে কোয়ান্টামের?

দেশের ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের (স্কুল ও কলেজ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলায় ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনাও জারি করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকদের এক দিনের মেডিটেশন কোর্স প্রশিক্ষণসহ ১০ দফা নির্দেশনা দেওয়ায় হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের অধীন মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি নিজের ভেন্যুতে বিনামূল্যে বাস্তবায়ন করবে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুত করা ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ সংক্রান্ত ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তবে দেশের প্রায় ২০ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো প্রশিক্ষক কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুত রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তাক আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক রয়েছে প্রতিষ্ঠানপ্রধান এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো। তাছাড়া একদিনে তো সব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে না। পর্যাক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সমঝোতা অনুযায়ী ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সম্প্রতি পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে ১২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরকারের উদ্যোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে এ ধরনের প্রোগাম জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কার্যক্রম হাতে নেওয়া সরকারের একার পক্ষে সম্ভব না। তাই বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমেব করতে হবে। কোয়ন্টামের একটি পরিচতি আছে। তবু প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ থাকা প্রয়োজন। প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে বাছাই করলেও হয়ত কোয়ন্টাম ফাউন্ডেশনই নির্বাচাচিত হতো, তাতে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠার সম্ভাবনা থাকত না।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়েছে, সারাদেশে কয়েক লাখ প্রশিক্ষক রয়েছেন। চিকিৎসক থেকে বিভিন্ন পেশাজীবী রয়েছেন প্রশিক্ষক। এরা সবাই সেচ্ছাসেবী।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছা মেডিটেশন কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে মনোচিকিৎসক ডা. আতিকুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একদিনের প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়, তবে কিছুটা হলেও উপকার হবে। দীর্ঘস্থায়ীভাবে প্রশিক্ষণ দিলে ভালো, তবে সেক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন। বেসরকারি সংস্থা নিজেদের উদ্যোগে বিনামূল্যে যতটুকু করুক ততটুকুই ভালো।
শিক্ষক মেডিটেশনে কী থাকছে জানতে চাইলে কেয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে. প্রশিক্ষণ হবে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ পরিচালনার জন্য। শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে এটি বাস্তবায়ন করবেন। খাদ্যাভাস, সময়মত খাওয়া, সময়মত ঘুমানো, আচরণ-ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা মূল উদ্ধেশ্য। শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ ফিটনেস রক্ষার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষকরাই মূল কাজ করবেন। শিক্ষার্থীদের তারা অবজারভেশনে রাখবেন ছয় মাস বা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।
এই কার্যক্রম শুরু হবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সঙ্গে আলোচনা করে।
অধিদফতরের নির্দেশনা
ম্যানুয়াল অনুযায়ী, পরিচালনা ও বাস্তবায়ন গাইডলাইনের কাউন্সেলিং সেবা প্রদানসহ অবশিষ্ট নির্দেশনাগুলো শিক্ষার্থীদের দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রমের সঙ্গে প্রয়োজন অনুসারে বাস্তবায়িত হবে।
প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের নীতিমালা অনুসারে স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনিটরিং পুল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে
মনিটরিং পুলের কার্যাবলি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল এবং পরিচালনা ও বাস্তবায়ন গাইডলাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর বাইরের কোনও কার্যক্রমের সঙ্গে কোনও অবস্থাতেই সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না।
স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনিটরিং পুল প্রতি বছর নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করবেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বেশি হলে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যাচ আকারে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে।
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অভিভাবকদেরকে এই প্রশিক্ষণ সম্পর্কে অবহিতকরণের অংশ হিসেবে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন মনে করলে, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সংশ্লিষ্ট অঞ্চল-জেলা-থানা-উপজেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন সমন্বয় করবেন।
তাছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিষয়ে প্রয়োজনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কো-অর্ডিনেটর (মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) সাইকোলজিস্টের (যোগাযোগ: ০১৮৯২০০৯৯১৪ ও ই-মেইল: ([email protected]) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন; প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে এবং প্রশিক্ষণ পরবর্তী দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রমের মনিটরিং পুলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ স্কাউটস (স্কাউটস-স্কুল পর্যায়ে ও রোভার স্কাউটস-কলেজ পর্যায়ে) সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সম্পৃক্ত থাকবে।



